অধ্যক্ষ

বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠিকে শিক্ষিত ও দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন সরকারি ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনষ্টিটিউট সমূহে সাধারণ শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার সমন্বইয়ে প্রণীত যুগোপযোগী এসএসসি(ভোকেশনাল) ও এইচএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষা কার্যক্রম প্রবর্তন করে এবং পরবর্তীতে ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনষ্টিটিউটগুলোকে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে নামকরণ করে। কর্ম বিমুখ শিক্ষা ব্যবস্থার সামাজিক এবং অর্থনৈতিক কুফল হতে দেশ, জাতি ও আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার আলোকে আমাদের ছাত্র সমাজকে গড়ে তুলতে হবে। এমন যুগোপযোগী শিক্ষা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দিতে হবে, যার দ্বারা তারা শিক্ষা শেষে নিশ্চিতভাবে চাকুরী বা আত্মকর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে। নিজেদের ভবিষ্যৎকে আর্থিকভাবে সুদৃঢ় করবে। সেই সাথে দেশ ও জাতি বেকারত্বের হাত থেকে রেহাই পাবে। আগামীতে দেশ ও জাতি এসমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উপকৃত হোক এ আমাদের প্রত্যাশা। এ প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কুড়িগ্রাম উল্লেখযোগ্য। ভোকেশনাল শিক্ষা কার্যক্রমের দিকে দৃষ্টিপাত করলে লক্ষ্য করা যায় যে, অতীতে ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনষ্টিটিউসমূহে শুধুমাত্র কিছু কারিগরি বিষয়ে শেখানো হতো। কিন্তু বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড পরিচালিত উচ্চ শিক্ষা কার্যক্রমের সনদপত্র সাধারণ শিক্ষাবোর্ডর সনদপত্রের সমমানের না হওয়ায় উক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা অতীতে সমাজে কিছুটা অবহেলিত ছিল। ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ হতে শুধুমাত্র কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার পরিবর্তে সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষার সমন্বয়ে করে ২ বছর মেয়াদী (নবম ও দশম শ্ৰেণী) এসএসসি (ভোকেশনাল) এবং ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ হতে ২ বছর মেয়াদী (একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী) এইচএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষা কার্যক্রম প্রবর্তন করা হয় এ শিক্ষা কার্যক্রমের সনদপত্র সাধারণ শিক্ষাবোর্ডের এসএসসি ও এইচএসসি সনদপত্রের সমমান হওয়ায় তা সর্বক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে।

 

কৃষিবিদ মোঃ মুনজুর হোসেন
অধ্যক্ষ
কুড়িগ্রাম টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ
কুড়িগ্রাম